
এ আর্টিকেলে যা থাকছে
বাচ্চার ময়লা জিনিস খাওয়া বা মুখে দেয়া কোনো খারাপ স্বভাব না। এটা সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চার লক্ষণ। এভাবেই বাচ্চা নিজের হাতে খাওয়ার দক্ষতা রপ্ত করে। নতুন খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়।
১৮ মাসের কম বয়সী শিশুর নাগালে কোনো ময়লা রাখাই যাবে না। ঘরদোর বেবিসেইফ করতে হবে। মেঝে পরিস্কার ও শুস্ক রাখতে হবে। যা তা মুখে দেয়া বন্ধ করার একমাত্র উপায় যা তা নাগালের মধ্যে না রাখা।
বিশেষ করে ভেজা স্যাতস্যাতে পরিবেশে ময়লা এমনকি সেখানে পড়ে থাকা খাবারও শিশুর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ আর্টিকেলে মজার একটি খেলার আইডিয়া পাবেন যা বাচ্চার ময়লা জিনিস মুখে দেয়ার প্রবণতা কমাবে। তাকে খাদ্য ও অখাদ্য চিনতে সাহায্য করবে। খেলাটি ১৮ মাস+ বাচ্চাদের জন্য।
২ বছর থেকে এমিলের সাথে আমি একটি মজার খেলা খেলি। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই।
খেলার নাম— খাওয়া যায়? Edible or Not!
এ খেলায় একজন একনাগাড়ে কয়েকটি জিনিসের নাম বলবে।
অন্যজন বলবে- খাওয়া যায় বা Edible or not.
বাংলা পুঁথির সুরে সুরে আমি বলি—
বালিশ কি খাওয়া যায়?
এমিল হাসতে হাসতে শেষ— না।
ক্যামেরা কি খাওয়া যায়?
না।
সোফা কি খাওয়া যায়?
না।
মুড়ি কি খাওয়া যায়?
যায় যায়।
ঝুড়ি কি খাওয়া যায়?
না!
নুড়ি কি খাওয়া যায়?
না না!
পুরি কি খাওয়া যায়?
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
শুধু মুড়ি পুরি না, ডিম শিম লাটিম হাট্টিমা টিম টিমসহ সবই এ খেলায় একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করি। এমিলও অনেক আনন্দ নিয়ে আমাকে উল্টাপাল্টা জিনিসের নাম বলে জিজ্ঞাসা করে খাওয়া যায় কিনা।
বাংলা ইংরেজি প্র্যাকটিস, শব্দ ছন্দ ছড়ার ধারণা, নির্মল বিনোদন, শিক্ষামূলক খেলার চেয়েও সবচেয়ে বেশি এ খেলায় যেটা
হয়ে যায় সেটা হলো— কোন জিনিস মুখে দেবে না তার স্পষ্ট ধারণা।
এই খেলা আমার আবিস্কার। এবং আমার জন্য এটা খুব কাজে দেয়। তার মানে এই না যে এমিল নট এডিবল কোনো জিনিস মুখে কখনো দেয় না। দেয় কিন্তু খুবই কম। দিলে আমি মনে করিয়ে দেই, হেসেই, এমিল এটা কি খাওয়া যায়?
আমি এরকম অনেক খেলা বানিয়েছি। যেগুলো দিয়ে শিশুর প্রাত্যহিক আচরণগুলির হাসিখুশি সমাধান সম্ভব। আমাদের ওয়েবসাইটের ‘শিশুর খেলা’ ক্যাটাগরিতে এমন আইডিয়াগুলি পাবেন।
